শিলিগুড়ি: প্রশাসনিক বৈঠক ও সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কালিম্পং যাওয়ার কথা থাকলেও খারাপ দৃশ্যমানতার কারণে সেখানে অবতরণ করতে পারল না মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হেলিকপ্টার। শেষ পর্যন্ত কালিম্পংয়ের পরিবর্তে ফুলবাড়িতে অবতরণ করে হেলিকপ্টারটি। সেখান থেকে উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যায় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার কালিম্পং টাউন হলে প্রশাসনিক বৈঠক এবং একাধিক সরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে লোনাক হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩টি পরিবারের হাতে পুনর্বাসন ও আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই টাউন হলে মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে।
মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কালিম্পংয়ে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা, পাহাড়ের তিন বিধায়ক সোনম লামা, নোমান রাই ও ভরত ছেত্রী-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছয়। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে কালিম্পংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কালিম্পংয়ের দুরবিন গুম্বায় তৈরি করা হয়েছিল হেলিপ্যাড। সেখানেই হেলিকপ্টার অবতরণের কথা ছিল।
হেলিকপ্টার অবতরণের পর সড়কপথে টাউন হলের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। টাউন হলের কিছুটা আগে কালিম্পংয়ের স্কুল পড়ুয়াদের পাইপ ব্যান্ডের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানানোরও কর্মসূচি ছিল। এরপর পড়ুয়াদের সঙ্গে হেঁটে টাউন হলে পৌঁছনোর পরিকল্পনা ছিল।
তবে শেষ মুহূর্তে বাধ সাধে হেলিপ্যাড এলাকার দৃশ্যমানতা। দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় নিরাপত্তার কারণে হেলিকপ্টার অবতরণ করানো সম্ভব হয়নি। ফলে কালিম্পংয়ের আকাশ থেকেই হেলিকপ্টার ঘুরিয়ে ফুলবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়। ফুলবাড়িতে অবতরণের পর সড়কপথে উত্তরকন্যায় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কালিম্পংয়ের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল না করে উত্তরকন্যা থেকেই ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। ভার্চুয়াল মাধ্যমে তিনি সরকারি পরিষেবা প্রদান এবং নির্ধারিত কর্মসূচিগুলি সম্পন্ন করবেন বলে জানা গিয়েছে।