শিলিগুড়ি: পরিবর্তনের ছোঁয়ায় নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে শিলিগুড়ির পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা এই শিল্পী হাটকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হল হস্তশিল্প মেলার। রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের শিল্পীরাও তাঁদের নিজস্ব হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।
মেলায় রয়েছে মোট ১৪১টি স্টল। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি স্টল উত্তরবঙ্গের শিল্পীদের। ফলে এই মেলা শুধু হস্তশিল্পের প্রদর্শনী ও বিক্রির ক্ষেত্র হিসেবেই নয়, উত্তরবঙ্গের স্থানীয় শিল্পীদের নিজেদের কাজ বৃহত্তর ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও উঠে এসেছে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দীপক বর্মন, আনন্দময় বর্মন এবং বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জী। অনুষ্ঠানে শিল্পী হাটকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। দপ্তরের লক্ষ্য, শুধুমাত্র কয়েক দিনের মেলার মধ্যে এই উদ্যোগকে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পী হাটকে সারা বছর ধরে সক্রিয় রাখা।
সেই লক্ষ্যে শিল্পী হাটের পরিকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিয়মিত হাট বসানোর পাশাপাশি আম মেলা, শাড়ির মেলা-সহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষ মেলার আয়োজনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। এর মাধ্যমে শিল্পী হাটকে একটি স্থায়ী বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্রশিল্পের পণ্যকে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিল্পীদের তৈরি সামগ্রীর গুণগত মানের পাশাপাশি আকর্ষণীয় প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের উপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলার বিভিন্ন জিআই স্বীকৃত পণ্যকে দেশ-বিদেশের বাজারে পরিচিত করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ির শিল্পী হাটকে নতুন রূপে সাজিয়ে উত্তরবঙ্গের শিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিদের জন্য একটি স্থায়ী বিপণন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।