loader image
Skip to main content

Khabar Siliguri

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক মঠ-মন্দির আছে, যেখানে ভগবানকে বিচিত্র রূপে পুজো করা। ভগবানের বিভিন্ন রুপ কল্পনা করা হয়। সেভাবেই ভক্তদের মনে ভগবান বেঁচে থাকেন। যেমন হিমাচল প্রদেশের লুতরু মহাদেব মন্দির। শুনে চমকে যাবেন, এমনটাই স্বাভাবিক। হিমাচল প্রদেশের শান্ত, সবুজ গাছপালায় ঘেরা পাহাড়ের বুকে অবস্থান এই মন্দিরটির। লুতরু মহাদেব মন্দিরের ইতিহাস বেশ পুরনো। স্থানীয় তথ্য ও কিংবদন্তি অনুসারে, ১৬২১ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন বাঘল রাজ্যের রাজা পৃথ্বী সিংহ এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। আলাদা করে কোনও পাথরের শিবলিঙ্গ বসানো হয়নি এখানে, বরং পাহাড়ের গায়েরই এক অংশ শিবলিঙ্গের আকার ধারণ করেছে। এই পাথরটির বিশেষত্ব হল, তার গায়ে সরু পাইপের মতো একাধিক ফাঁপা খাঁজ ও ছিদ্র রয়েছে।

কিন্তু সব ছেড়ে যেন ধূমপায়ী হলেন দেবতা? মনে করা হয়, মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাসের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নতুন এই বিড়ি-সিগারেট প্রদানের রীতি। কথিত আছে, কোনও এক স্থানীয় রাখাল বা সাধু উপাসনাকালে, শিবলিঙ্গের গায়ে থাকা প্রাকৃতিক খাঁজের মধ্যে একটি জ্বলন্ত বিড়ি বা সিগারেট রেখে দিয়েছিলেন। সকলকে অবাক করে দিয়ে, সেটি নিভে যাওয়ার পরিবর্তে আরও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলতে থাকে, যেন পাথরের খাঁজের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে বায়ু। এই ঘটনা থেকেই ভক্তদের মধ্যে নতুন বিশ্বাস জন্ম নেয়। সময়ের সঙ্গে নানা স্থানীয় বিশ্বাস ও লোককথা জড়িয়েছে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কেউ বলেন, ইশ্বরকে সিগারেট নিবেদন যথেষ্ট অস্বাভাবিক হলেও আদতে তা ভক্তের নির্মল মনের প্রকাশ। ভোলেনাথ বরাবরই মুক্ত মনে গ্রহণ করেন ভক্তের নিবেদন, তাই এতে তাঁর আপত্তি নেই কোনও। কেউ কেউ মনে করেন, জ্বলন্ত বিড়ি-সিগারেট দানের মাধ্যমে নিজেদের খারাপ অভ্যাস, নেতিবাচক চিন্তা কিংবা পার্থিব চাহিদা শিবের কাছে সমর্পণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *