loader image
Skip to main content

Khabar Siliguri

১৯৭৩-এর চিপকো আন্দোলন। উত্তরপ্রদেশের চামোলি জেলায় বন ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গ্রামবাসীরা গাছ জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন, যাতে ঠিকাদাররা গাছ কাটতে না পারেন। গাছই যে পরম বন্ধু, অক্ষর পরিচিতির সঙ্গে সেই ধারনা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে রোপন করে দেওয়ায় আমাদের কর্তৃব্য। সেই ছবিই দেখাল উলুবেড়িয়ার নুনেবাড় মহাকালী প্রাথমিক বিদ্যালয়। গাছ ও চারা গাছে রাখি পরিয়ে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করল খুদেরা। হাওড়ার একেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম নুনেবাড়। শ্যামপুর-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত নুনেবাড় মহাকালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এভাবেই সাড়ম্বরে পালিত হল রাখিবন্ধন উৎসব। পড়ুয়াদের বক্তব্য, এইভাবে গাছকে আমরা ভাইয়ের মর্যাদা দিলাম। এতে খুশি শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে পড়ুয়ারাও।

শিক্ষক শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, পড়ুয়ারা শ’খানেক গাছে রাখি পরিয়েছে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের হাতে লাগানো গাছগুলির ডালে রাখি পরানোর মধ্য দিয়ে। এছাড়া স্কুলের মাঠের চারপাশে গাছ রয়েছে সেই গাছেও রাখি বাঁধা হয়। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সমস্ত ছাত্রছাত্রীর হাতে রাখি পরিয়ে দেন। খুঁদে পড়ুয়াদের কথায়, যাতে গাছকে ভালবাসতে পারি, গাছের ওপর না কোন আমরা আঘাত করি এই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপম বর্মনের বক্তব্য, শুধু গাছ লাগানোই নয়, গাছকে পরিবারের একজন সদস্যের মতো ভালোবাসা ও তার যত্ন নেওয়ার মানসিকতা শিশুদের মধ্যে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ছাত্রছাত্রীদের এই উদ্যোগ আগামী দিনে পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তাঁরা আশাবাদী। সহকারী শিক্ষক সমিত ভঞ্জ বলেন, “রাখির সুতো আসলে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও সুরক্ষার প্রতীক। তাই এবারের রাখিবন্ধনে আমরা সেই ভালোবাসার বন্ধনকে আমাদের বিদ্যালয়ের সবুজ বন্ধুদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *