loader image
Skip to main content

Khabar Siliguri

বাংলার অধিকাংশ প্রান্তে দশমীর সিঁদুরখেলা আর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে যখন শারদোৎসবের ইতি ঘটে, তখনই রায়গঞ্জের খাদিমপুর গ্রামে শুরু হয় এক অন্যরকম পুজোর আনন্দ। দশমীর রাত থেকেই এখানে বালাইচণ্ডী রূপে পূজিতা হন দেবী। ঠিক কত বছরের পুরোনো এই পুজো সেই বিষয়ে স্থানীয়রাও নিশ্চিত নন। তবে প্রাচীন ঐতিহ্য, লোকবিশ্বাস ও নিজস্ব নিয়মনীতি ঘিরে আজও উৎসবে মেতে ওঠেন গ্রামের বাসিন্দারা। পুজোকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে চলে উৎসব ও মেলা। রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে ১৪ নম্বর কমলাবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের খাদিমপুর গ্রামে প্রচলিত এই পুজো বাংলার আর পাঁচটা পুজোর থেকে অনেকটাই আলাদা। এখানে দেবী চতুর্ভূজা রূপে পূজিতা হন। দেবীর চার হাতেই রয়েছে অস্ত্র, তবে তাঁর পায়ের নীচে দেখা যায় না মহিষাসুরের মূর্তি। অন্যদিকে, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে দেবী সপরিবারেই পূজিতা হন। প্রাচীন রীতি মেনে আজও এই পুজোয় প্রচলিত রয়েছে বলিপ্রথা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, বালাইচণ্ডী রূপী দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। সেই বিশ্বাস ও ভক্তির টানেই শুধু গ্রামের মানুষ নন, দূরদূরান্ত থেকেও বহু দর্শনার্থী ভিড় জমান এই পুজোয়। দীর্ঘদিনের লোকাচার, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের মেলবন্ধনে খাদিমপুরের বালাইচণ্ডী পুজো আজও স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে চলেছে। শারদোৎসবের বিদায়বেলায় যখন বিসর্জনের বিষাদে মন ভারাক্রান্ত, তখন খাদিমপুরে যেন উল্টো ছবি। দশমীর রাত থেকেই গ্রামজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। পুজোকে কেন্দ্র করে বসে মেলা, আর সেই মেলাকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন আট থেকে আশি—সব বয়সের মানুষ। নতুন করে উৎসবের স্বাদ পান গ্রামবাসীরা। যদিও এবারে শুক্রবার পরে যাওয়ায় পাশের কোমলাবাড়ি হাটের কারণে মেলা শনিবার হবে বলে জানা গেছে। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে, বদলেছে উৎসব উদ্‌যাপনের নানা ধরন। কিন্তু খাদিমপুরে বালাইচণ্ডী পুজোর ঐতিহ্য আজও অমলিন। দুর্গাপুজোর বিসর্জনের পরেও যে ভক্তি, বিশ্বাস আর উৎসবের আনন্দ থেমে থাকে না, তারই এক অনন্য উদাহরণ রায়গঞ্জের এই প্রাচীন বালাইচণ্ডী পুজো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *