loader image
Skip to main content

Khabar Siliguri

কলকাতার প্রায় সব পুজো, বিশেষ করে বিগ বাজেটের পুজোগুলো ঠিকমত পুজোর হিসাব রাখতো না বলে অভিযোগ। কিন্তু নতুন সরকার স্পষ্ট বলে দিয়েছে সম্পূর্ণ হিসাব রাখতে হবে। অতিরিক্ত খরচ নিয়ে আপত্তি আছে সরকারের। গত কয়েক বছরে শহরের বেড়েছে বিগ বাজেটের পুজো। উত্তর থেকে দক্ষিণ, লাখ পেরিয়ে কোটি টাকায় পৌঁছেছে পুজোর বাজেট। কিন্তু পালাবদলেই ছন্দপতন। চলতি বছর ‘ছোট’ হচ্ছে বড়রা। কমিটি বদল। বাজেটে বিস্তর কাটছাঁট। সব মিলিয়ে যে সমস্ত পুজোয় তিল ধারণের জায়গা থাকত না, এবার সে সব পুজো কার্যত নমো নমো করে হতে চলেছে।
উত্তর কলকাতা হোক বা দক্ষিণ, তৃণমূল আমলে অধিকাংশ পুজোর সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল নেতা-মন্ত্রী কিংবা কাউন্সিলরের নাম। যেখানে স্পনসরের বাইরেও অর্থের উৎস নিয়ে বিশেষ ভাবিত হওয়ার প্রয়োজন হত না। এমনকী একাধিক পুজোর নতুন কমিটির দাবি, বিগত বছরে পুজোর অডিটও সঠিকভাবে করা হয়নি। দিতে হয়নি আয়-ব্যয়ের হিসেব। ফলে আগাপাছতলা না ভেবে মণ্ডপ তৈরিতে দেদার খরচ করা হয়েছে। কিন্তু এবার সে গুড়ে বালি।

পুজো থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর শুভেন্দু সরকার। পুজোয় যেমন রাজনীতির রং লাগতে দেওয়া হবে না, তেমন কোনও বেনিয়মও সহ্য করা হবে না, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সেই ভাবেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নতুন কমিটিগুলি। এবার আসা যাক নতুন সরকারের জমানায় কোন পুজোর মাথায় খাঁড়া নেমে এসেছে। প্রথমেই নাম আসে দমদম এলাকার দক্ষিণপাড়া সর্বজনীনের পুজোর। দু-তিন বছরেই ফুলে ফেঁপে উঠেছিল এই পুজো। শুধু আকাশচুম্বি মণ্ডপ এবং প্রতিমাই নয়, সেলিব্রিটিদের উপস্থিতি থেকে রাস্তাজুড়ে আলোর রোশনাই, সবমিলিয়ে জমজমাট হয়ে উঠত পরিবেশ। কিন্তু এবার এই এলাকার ছবিটা দেখলে মনে হয়, পুনঃ মূষিক ভব। একই ছবি বনহুগলির ন’পাড়া দাদাভাই সংঘ। গত দু’বছর এই পুজোর চাকচিক্য অন্যদের কাছে ছিল রীতিমতো ঈর্ষণীয়। এবার পুজোর ৫০ দিন আগে সেখানে শুধুই অন্ধকার! অর্জুনপুর আমরা সবাই ক্লাবের পুজোর ভিড় নিয়ে আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। শিল্পী ভবতোষ সুতারের হাতের ছোঁয়ায় গলি থেকে রাজপথে পৌঁছে গিয়েছিল এই পুজো। ক্লাবের শোকেসে ঢুকেছে প্রচুর পুরস্কারও। কিন্তু এবার ছবিটা বদলাচ্ছে। ক্লাবের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে বড়সড় করেই পুজো আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পুলিশ পরিদর্শনের পর বড় করে পুজোর অনুমতি দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *