শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ির অন্যতম প্রাচীন ও বিগ বাজেটের কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হাকিমপাড়ার বিবেকানন্দ ক্লাবের পুজো। এবার ৭৯তম বর্ষে পা দিতে চলেছে এই পুজো। সোমবার ক্লাব প্রাঙ্গণে খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হল এবারের কালীপুজোর প্রস্তুতি। প্রতি বছরের মতো এবারও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ নিয়ে হাজির হতে চলেছে পুজো উদ্যোক্তারা। এবারের মূল ভাবনায় উঠে আসবে নর্থ ইস্টের ঐতিহ্য ও লোকশিল্প।
সিকিম, নেপাল ও তিব্বত-সহ পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং লোকশিল্পকে মণ্ডপসজ্জার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে। পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন শিল্পকলা ও শিল্পসত্তাকে বিশেষভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত কলকাতার শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলার হাত ধরে তৈরি হবে এবারের পুজোমণ্ডপ। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হবে প্রতিমাও। পাশাপাশি থাকবে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা। পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ জন কর্মী এই মণ্ডপ তৈরির কাজে যুক্ত থাকবেন। তবে আপাতত এবারের থিমের নাম প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা।
হাকিমপাড়ার বিবেকানন্দ স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই পুজো দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ির কালীপুজোর অন্যতম বড় আকর্ষণ। একসময় এই পুজোয় বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিও নজর কেড়েছিল। বর্তমানে পুজোর জায়গা ক্রমশ সীমিত হয়ে এলেও ঐতিহ্য বজায় রেখে বড় বাজেটের আকর্ষণীয় পুজো উপহার দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
পুজোকে কেন্দ্র করে সামাজিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে পুজো কমিটি। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ প্রশস্ত রাখা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন এবং পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যারিকেড দিয়ে অযথা আটকে না রেখে যাতে তাঁরা স্বাভাবিকভাবে পুজো দেখতে পারেন, সেদিকেও বিশেষ নজর থাকবে।
আগামী ৭ নভেম্বর রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজের হাত ধরে পুজোমণ্ডপের উদ্বোধন হওয়ার কথা। সোমবারের খুঁটিপুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলা, কালীপুজোর যুগ্ম সম্পাদক গোবিন্দ বণিক ও সুভাষ বসাক, সৌরভ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক নিলয় চক্রবর্তী-সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা। ঐতিহ্য, পাহাড়ি সংস্কৃতি ও আধুনিক মণ্ডপসজ্জার মেলবন্ধনে এবারের বিবেকানন্দ ক্লাবের কালীপুজো দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদী উদ্যোক্তারা।