loader image
Skip to main content

Khabar Siliguri

ভারতীয় পুরাণ বহু বিচিত্রগামী। তাতেই রয়েছে নানা বিচিত্র ধৰ্মীয় কথা। পুরারণের এমনই এক গল্প থেকে জানা যায় ইন্দ্রকে ইন্দ্রানীর রাখি পরানোর কথা। চান্দ্রমাসের হিসাব অনুসারে, এটি শ্রাবণ মাস। আর এই মাসের শেষ দিনটিতে পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে সুতোর টানে বাঁধা পড়ে এক অমলিন স্নেহের বন্ধন। আজ যা ভাই-বোনের ভালোবাসার প্রতীক, তার নেপথ্যে রয়েছে হাজার বছরের পৌরাণিক ইতিহাস। কিন্তু জানেন কি, রক্ষাসূত্রের এই পবিত্র ঐতিহ্য আদতে শুধুই ভাই-বোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না! কালের নিয়মে বদলালেও, রাখি পূর্ণিমার মূল দর্শন লুকিয়ে রয়েছে সুরক্ষার অমোঘ প্রতিশ্রুতির মধ্যেই। ভবিষ্যপুরাণের পাতায় চোখ রাখলে মেলে এক আশ্চর্য কাহিনি। সত্যযুগে অমরাবতী গ্রাস করেছিল পরাক্রান্ত অসুর বৃতাসুর। দেবরাজ ইন্দ্রও পরাস্ত হন তাঁর কাছে। অবশেষে মহর্ষি দধিচির অস্থি দিয়ে নির্মিত হল অমোঘ অস্ত্র ‘বজ্র’। কিন্তু যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে দেবরাজের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন সুরেশ্বরী শচী।

স্বামীর মঙ্গল কামনায় নিজের তপোবল এক ছত্রে এনে তিনি একটি অলৌকিক রক্ষাসূত্র রচনা করেন। শ্রাবণী পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে ইন্দ্রের কবজিতে সেই সুতো বেঁধে দিয়েছিলেন ইন্দ্রাণী। সেটিই ছিল মর্ত্যের ইতিহাসে প্রথম রূপক রাখি, যা পত্নী বেঁধেছিলেন পতির সুরক্ষিত প্রত্যাবর্তনের প্রার্থনায়। মহাভারতের যুগে এই রক্ষাসূত্র লাভ করে এক পরম আত্মিক মাত্রা। রাজসূয় যজ্ঞে শিশুপাল বধের সময় সুদর্শন চক্রের তীক্ষ্ণ প্রভাবে আহত হন পুরুষোত্তম কৃষ্ণ। আঙুল কেটে রক্তধারা বইতে দেখে ক্ষণমাত্র বিলম্ব করেননি পঞ্চালনন্দিনী দ্রৌপদী। নিজের রক্তাম্বর শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে তিনি পরম শ্রদ্ধায় বেঁধে দেন কৃষ্ণের ক্ষতে। সেই এক টুকরো কাপড়ই হয়ে ওঠে মহাভারতের অন্যতম শক্তিশালী রক্ষাকবচ। পরবর্তীতে কৌরবসভায় যখন দ্রৌপদীর কুলস্ত্রীত্ব লুণ্ঠনের অপচেষ্টা হয়, তখন সেই বস্ত্রখণ্ডের ঋণ শোধ করেন বাসুদেব। অনন্ত বস্ত্র জুগিয়ে সখীর লজ্জা নিবারণ করেছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *