loader image
Skip to main content

Khabar Siliguri

ফরাক্কা: সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলের কল ডিটেলস বিশ্লেষণ করে ফরাক্কার আমতলায় যুবক খুনের ঘটনার রহস্যভেদ করল পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাসিরুদ্দিন শেখ ওরফে ‘মিস্টার’ (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অধীন ফরাক্কা থানার পুলিশ। ধৃতের বাড়ি ফরাক্কার অর্জুনপুর সাঁকোপাড়া এলাকায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মতবিরোধের জেরেই পরিকল্পনা করে এই খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবার ফরাক্কা থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করে তদন্তের অগ্রগতি ও গ্রেপ্তারের কথা জানান পুলিশ আধিকারিকরা। ধৃতকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ড সীমানা সংলগ্ন ফরাক্কার আমতলা এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে মোবারক হোসেন (২০) নামে এক যুবকের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তে নামে ফরাক্কা থানার পুলিশ। তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন থানার আইসি অমিত মুখার্জি ও এসডিপিও দীপেন্দ্র তামাং। তদন্তে এনটিপিসি থানার আধিকারিকরাও সহযোগিতা করেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কয়েকটি মদের বোতল উদ্ধার হয়।

এরপর তদন্তের স্বার্থে মৃত যুবকের মোবাইলের কল ডিটেলস এবং এলাকার একটি মদের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই নাসিরুদ্দিনের নাম উঠে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। শনিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে সে খুনের কথা স্বীকার করেছে।

জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কান্তি বিশ্বাস জানান, ওড়িশায় একসঙ্গে কাজ করার সময় মোবারক ও নাসিরুদ্দিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। নাসিরুদ্দিন বিবাহিত। দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে টানাপোড়েন ও মতবিরোধ চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, সেই বিবাদের জেরেই মোবারককে খুনের পরিকল্পনা করে নাসিরুদ্দিন।

তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন মোবারককে মাঠে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানে মদ্যপান করানোর পর তাকে অচেতন করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তার হাত-পা বেঁধে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে খুন করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

রবিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কান্তি বিশ্বাস, ফরাক্কার এসডিপিও দীপেন্দ্র তামাং এবং ফরাক্কা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অমিত মুখার্জি।

এই হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের পেছনে থাকা সমস্ত তথ্য ও সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা জানার চেষ্টা করা হবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *